ঐতিহ্যবাহী ধামরাই হার্ডিঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা পাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ঘোষণার প্রায় সাত বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এখনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বাস্তবে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম এখনো আগের বেসরকারি কাঠামোর মতোই চলছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারিকরণ ঘোষণার পরও প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের নতুন করে ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এজন্য শিক্ষার্থীদের সেশন চার্জ, উন্নয়ন ফি ও অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন দিতে হচ্ছে ১৭০ টাকা এবং নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিতে হচ্ছে ১৯০ টাকা। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ার সময় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৬২০ টাকা এবং নবম-দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রায় ৪ হাজার ৬৪০ টাকা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, লাগামহীন ভর্তি ও উন্নয়ন ফি জোগাতে গিয়ে তারা চরম আর্থিক চাপে পড়ছেন। পাশের উপজেলাগুলোর সরকারি বিদ্যালয়ে যেখানে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ফি নেওয়া হয়, সেখানে হার্ডিঞ্জ স্কুলে সরকারি ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
হার্ডিঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক জুলেখা বেগম জানান, ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের ঘোষণা দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তারা কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি সুবিধা পাননি। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৪টি শাখা রয়েছে, প্রতিটি শাখায় গড়ে ৫৫ জন করে শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কারিগরিসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন, খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন ২৮ জন এবং অন্যান্য কর্মচারী রয়েছেন ১২ জন। খণ্ডকালীন শিক্ষক ও অতিরিক্ত কর্মচারীদের সম্মানি পরিশোধের জন্য ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে নেওয়া সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নয়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ বছর নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
অভিভাবক সাব্বির হোসেন জনি বলেন, “সরকারি স্কুল হলেও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ কমেনি। প্রতি বছর নতুন শ্রেণিতে ওঠার সময় বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে, যা আমাদের মতো স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্য খুবই কষ্টকর।”
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আসেননি। আগের রেজুলেশন অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারিকরণের সুফল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।