দেশে কৃষি উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি মোট ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার সংগ্রহের পৃথক দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের ষষ্ঠ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, তিউনিসিয়ার গ্রুপ কেমিক টুনিসিয়েন (জিসিটি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এ আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩০ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয়ের অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ব্যাগিং চার্জসহ প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩১ মার্কিন ডলার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন আবাদ মৌসুমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
সভায় সার সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম শক্তিশালী করতে মেহেরপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় দুটি বাফার গোডাউন নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য দেশব্যাপী ৩৪টি বাফার গোডাউন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় মেহেরপুর জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি গোডাউন নির্মাণ করা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এ কাজ বাস্তবায়ন করবে মেসার্স এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আরেকটি গোডাউন নির্মাণ করা হবে, যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মেসার্স মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব বাফার গোডাউন নির্মিত হলে সার সংরক্ষণে সক্ষমতা বাড়বে এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে সংগ্রহ-পরবর্তী অপচয় কমাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক