রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং শুরু আজ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং শুরু আজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 28, 2026 ইং
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং শুরু আজ ছবির ক্যাপশন:

পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ থেকে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এই ধাপকে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছে, এই কার্যক্রমের উদ্বোধন ভার্চুয়ালি সম্পন্ন হবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সাধারণ তাপবিদ্যুৎ বা জলবিদ্যুৎ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি প্রযুক্তি। একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগে বিভিন্ন নিরাপত্তা ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে ফুয়েল লোডিং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

ফুয়েল লোডিং মূলত এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের ভেতরে বিশেষভাবে প্রস্তুত ইউরেনিয়াম ফুয়েল রড স্থাপন করা হয়। এই জ্বালানিই পরবর্তীতে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করে। সেই তাপ ব্যবহার করে পানি বাষ্পে পরিণত করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুয়েল লোডিং একটি অত্যন্ত ধীর ও সতর্ক পর্যবেক্ষণভিত্তিক কাজ। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ প্রতিটি ধাপেই নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, ফুয়েল লোডিংয়ের পর পুরো সিস্টেমে ধাপে ধাপে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা, টারবাইন জেনারেটরের কার্যকারিতা এবং জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা হয়।

এই ধাপকে অনেক সময় ‘পাইলট অপারেশন’ বলা হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলেও তা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকে। এই পর্যায়ে সিস্টেমকে স্থিতিশীল ও নিরাপদ অবস্থায় আনার জন্য ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এরপর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। তখনই কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে প্রবেশ করে, যাকে বলা হয় কমার্শিয়াল অপারেশনাল ডেট (COD)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে রিঅ্যাক্টর তার সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশে কাজ করবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর জ্বালানি পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এটি আবার সাইকেল আকারে পরিচালিত হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি সফলভাবে চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
৬০–৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নৌবন্দরে সতর্ক সংকেত

৬০–৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নৌবন্দরে সতর্ক সংকেত