এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরাসরি আমদানিতে যাচ্ছে সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরাসরি আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 16, 2026 ইং
এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরাসরি আমদানিতে যাচ্ছে সরকার ছবির ক্যাপশন:
ad728

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরাসরি আমদানির পথে হাঁটছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্র জানায়, গত ১০ জানুয়ারি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দাম কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাজারে বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। বেসরকারি অপারেটরদের একটি অংশ আর্থিক ও লজিস্টিক জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছে না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম স্থিতিশীল করাই বিপিসির মূল লক্ষ্য। চিঠিতে বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। এতে সরকারের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর হাতিয়ার তৈরি হবে।

তবে বিপিসির নিজস্ব এলপিজি সংরক্ষণ ও টার্মিনাল অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি খাতের টার্মিনাল, খালাস ও বোতলজাতকরণ সুবিধা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। আপাতত সরকার শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতই পরিচালনা করবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে এবং বাকি ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা ও যানবাহনে। প্রতি বছরই এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। এলপি গ্যাস লিমিটেডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা বেড়ে বছরে প্রায় ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে সরকারি উৎস থেকে এলপিজি সরবরাহের সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টনের মতো, যা মোট চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, এলপিজি খাত পুরোপুরি বাণিজ্যিক হওয়ায় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ভোক্তাবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে তিনি মত দেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের জামিন