দেশের বাজারে আবার কমেছে সোনার দাম। আজ সোমবার (১০ মার্চ) ভরিপ্রতি ৩ হাজার ২৩৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৮ টাকা।
একই সঙ্গে কমেছে রুপার দামও।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও খাঁটি রুপার দাম কমে যাওয়ায় সোনা ও রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন এই দাম সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, এখন ২১ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভালো মানের রুপার দাম ভরিপ্রতি ১৭৫ টাকা কমে এখন দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।
গত সপ্তাহে দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। টানা চার দিন দাম বাড়ার পর বুধবার দাম কমানো হয়েছিল।
গত সপ্তাহের চার দিনে সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়েছিল ১২ হাজার ১৩ টাকা। পরে এক দফা কমানো হয় ৯ হাজার ২১৪ টাকা। ফলে সামগ্রিকভাবে গত সপ্তাহে সোনার দাম বেড়েছিল ২ হাজার ৭৯৯ টাকা।
গত জানুয়ারির শেষ দিক থেকে দেশের বাজারে সোনার দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। কখনো একই দিনে দাম বাড়ানো ও কমানোর ঘটনাও ঘটেছে।
গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ে। তখন ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো বা কমানো হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর আগে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছিল। তবে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বাজারে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী সোমবার পর্যন্ত সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৮২ ডলার কমেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৫ হাজার ৯০ ডলারের কাছাকাছি।
তবে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখনও ঊর্ধ্বমুখী। গত ৩০ দিনে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ১১৬ ডলার। আর গত ছয় মাসে বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৩০ ডলার।
কসমিক ডেস্ক