হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশে এল ৫টি এলপিজি ও এলএনজি জাহাজ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশে এল ৫টি এলপিজি ও এলএনজি জাহাজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে বাংলাদেশে এল ৫টি এলপিজি ও এলএনজি জাহাজ ছবির ক্যাপশন:

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পরও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদে পৌঁছেছে। বিশেষ করে রণক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচল করা পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ে বিভিন্ন আশঙ্কা থাকলেও ৫টি জাহাজ ইতিমধ্যেই বন্দরে নিরাপদে পৌঁছেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে আরও একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ ‘এলপিজি সেভেন’ ২২ হাজার ১৭২ টন তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়ার কথা রয়েছে। এর আগে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ওমানের সোহার বন্দর থেকে ‘জি-ওয়াইএমএন’ জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন গ্যাস নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে।

জ্বালানি আমদানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি ও এলপিজি জাহাজগুলোই মূল সরবরাহ করছে। ৩ মার্চ ‘আল জোরা’ ৬৩ হাজার ৩৮৩ টন এলএনজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ৫ মার্চ ‘আল জাস্সাসিয়া’ ৬৩ হাজার ৭৫ টন এলএনজি এবং একই দিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে ‘বে-ইয়াসু’ ৫ হাজার ১৯ টন মেরিন ইথানল গ্যাস (এমইজি) নিয়ে আসে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে আরও ৩টি বিশাল জাহাজ আসছে। এদের মধ্যে ‘লুসাইল’ ৯ মার্চ ৬২ হাজার ৯৮৭ টন এলএনজি নিয়ে, ‘আল গালায়েল’ ১১ মার্চ ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন এলএনজি এবং ‘লেব্রেথাহ’ ১৪ মার্চ ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে। এই জাহাজগুলোর শিপিং এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ইউনিগ্লোবাল, ইউনিক মেরিটাইম ও মিউচুয়াল শিপিং।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও এই আটটি জাহাজই গত ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে ঝুঁকিপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।”

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় অংশ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্ববাজারে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের কারণে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে নিরাপদ আগমনের মাধ্যমে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চয়তা পেলো।

এই ধারাবাহিকতায়, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং বাজারে সরবরাহে কোন প্রভাব না পড়া নিশ্চিত হচ্ছে। বন্দরের এই কার্যক্রম অর্থনীতি ও শিল্পখাতে স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জনগণের জন্য জ্বালানি সহজলভ্যতা নিশ্চিত করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি অতিক্রম করে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হচ্ছে। এছাড়া, জাহাজগুলোর নিরাপদ আগমন আন্তর্জাতিক জলপথ নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার দক্ষতাকেও প্রমাণ করছে।

এই পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ভবিষ্যতেও এই ধরণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জ্বালানি সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জ্ঞান ও ক্ষমতার বিপরীত মুখ: ইয়েং থিরিথের জীবন

জ্ঞান ও ক্ষমতার বিপরীত মুখ: ইয়েং থিরিথের জীবন