রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় মাহফিলের অতিথি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হামলায় রূপ নিয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিপাইপাড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন বিএনপি নেতা এরশাদ আলী (৬৫)।
এরশাদ আলী স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ইউসুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে। এছাড়া স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের অনুসারী হিসেবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পর একটি স্থানীয় মসজিদে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে গ্রামবাসী বৈঠকে বসেন। সভায় প্রধান অতিথি নির্বাচনকে ঘিরে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক পক্ষ জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে এরশাদ আলীসহ আরেকটি পক্ষ সাবেক এমপি আবু সাঈদ চাঁদকে প্রধান অতিথি হিসেবে চাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।
এই মতপার্থক্য দ্রুত উত্তপ্ত বিতর্কে রূপ নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সভা ভেঙে যায়। বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়নি; বরং এর জের রাত পর্যন্ত গড়ায় বলে স্থানীয়রা জানান।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারাবির নামাজ আদায় শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এরশাদ আলী। অভিযোগ রয়েছে, পথে তাকে লক্ষ্য করে ওত পেতে ছিলেন প্রতিপক্ষের কয়েকজন। আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান, সুমন আলী, সাব্বির, আশাদুল ও জোয়াদসহ কয়েকজন তার গতিরোধ করেন।
একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে এবং পরে হামলা চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অভিযুক্তরা পেয়ারা গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিষয়ে চারঘাট থানা-এর উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর ইউসুফপুর ইউনিয়নজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে।
মাহফিলের অতিথি নির্ধারণের মতো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংস পরিণতি এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে। রাজনৈতিক মতবিরোধ ও পূর্বশত্রুতার প্রভাবই শেষ পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনায় ভূমিকা রেখেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এরশাদ আলীর মৃত্যুতে তার পরিবার ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কসমিক ডেস্ক