২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার সামান্য কমেছে। সোমবার (২ মার্চ) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে খেলাপি ঋণের হার হয়েছে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর তিন মাস আগে, অর্থাৎ গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। তখন খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। তুলনামূলক হিসেবে দেখা যায়, ডিসেম্বর শেষে খেলাপির হার ও পরিমাণ—উভয় ক্ষেত্রেই কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক খেলাপি গ্রাহকদের একটি অংশ ঋণ পুনঃতপশিলের সুবিধা গ্রহণ করেছেন। বড় অঙ্কের কিছু ঋণ নবায়ন হওয়ায় খেলাপি হিসেবে গণ্য ঋণের পরিমাণ কমেছে। এর প্রভাব সামগ্রিক পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে।
তবে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশই মন্দজনিত বা আদায় অযোগ্য ঋণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। অর্থাৎ এসব ঋণ পুনরুদ্ধার করা ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
দেশের ইতিহাসে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে এ পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে কেবল পুনঃতপশিল নয়, বরং কার্যকর তদারকি, সুশাসন এবং ঋণ আদায়ে কঠোরতা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য ব্যাংক খাতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক