নিরাপত্তাহীন নারী ও শিশু, বাড়ছে নির্যাতনের পরিসংখ্যান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নিরাপত্তাহীন নারী ও শিশু, বাড়ছে নির্যাতনের পরিসংখ্যান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
নিরাপত্তাহীন নারী ও শিশু, বাড়ছে নির্যাতনের পরিসংখ্যান ছবির ক্যাপশন:
ad728

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন আর নোয়াখালীর সুবর্ণচর—এই দুটি শব্দ বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী নির্যাতনের একটি ভয়াবহ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নে সংঘটিত দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধ ছিল না; এটি রাজনৈতিক সহিংসতা ও নারী নির্যাতনের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে আজও স্মরণ করা হয়।

সুবর্ণচরের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত এক দশকে বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যার একটি বড় অংশ কখনোই প্রকাশ্যে আসে না। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বাইরে ভয়, সামাজিক চাপ ও বিচারহীনতার কারণে বহু ঘটনা থেকে যায় আড়ালে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জরিপ অনুযায়ী, গত ১০ বছরে দেশে অন্তত ৩৭ হাজার ৫৭৮ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গড়ে প্রতি বছর এই সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭৫৮ জন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রকৃত চিত্রের তুলনায় কম।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৫ হাজার ২৩৪ জন নারী ও কন্যাশিশু—যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ওই বছর ধর্ষণের শিকার হন ৯৬৯ জন। তবে ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ২০১৯ সালে, যখন ১ হাজার ৩৭০ জন নারী ও কন্যাশিশু এ অপরাধের শিকার হন।

গত এক দশকে ৫ হাজার ৬০৩ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৩২ জন ধর্ষণের পর হত্যা হয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।

নির্বাচনী বছরগুলোতে এই সহিংসতা বাড়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। ২০১৮ সালে নির্যাতনের শিকার হন ৩ হাজার ৯১৮ জন নারী ও কন্যাশিশু। পরের বছর ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬২২ জনে—প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদল, প্রশাসনিক শিথিলতা এবং অপরাধীদের বিচার না হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

২০২৪ সালের নির্বাচনের বছরে নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫২৫। তবে এর আগের বছর ২০২৩ সালে ছিল ২ হাজার ৯৩৭ এবং ২০২৫ সালে তা আবার বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৮০৮ জনে। এই ওঠানামা দেখায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাময়িকভাবে শক্ত হলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাদর্শের মানুষদের পাশাপাশি নারীরা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। তিনি বলেন, ভোটব্যাংকের রাজনীতিতে কোনো সম্প্রদায়কে টার্গেট করলে সবচেয়ে সহজ শিকার হন সেই সম্প্রদায়ের নারীরা।

তিনি আরও বলেন, হুমকি, উচ্ছেদের ভয় এবং যৌন নির্যাতন অনেক সময় ক্ষমতা প্রয়োগের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এসব ঘটনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নীরবে ঘটে যায় এবং প্রকাশ পায় না।

এদিকে সাইবার সহিংসতাও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে সাইবার সহিংসতার শিকারদের ৯৭ শতাংশই নারী ও শিশু। বিশেষ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারী প্রার্থীদের অনলাইনে বুলিং ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা বলেন, নির্বাচন সামনে এলেই নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রবণতা বলছে, নারী যত বেশি জনপরিসরে সক্রিয় হচ্ছেন, তত বেশি তারা অনলাইন ও অফলাইনে টার্গেট হচ্ছেন।

২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে। প্রশ্ন থেকে যায়—এই নির্বাচন কি আবার অতীতের মতো নারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হয়ে উঠবে, নাকি এবার রাষ্ট্র ও সমাজ নারী ও শিশুর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবে?

সংখ্যা বাড়ছে, সতর্কবার্তাও স্পষ্ট। এখন প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মান্না, বিএনপি-নাগরিক ঐক্য সমঝোতা

দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মান্না, বিএনপি-নাগরিক ঐক্য সমঝোতা