২০২৫ সালে আলোচনার কেন্দ্রে বিচার বিভাগ: রায়, সংস্কার ও ইতিহাসগড়া সিদ্ধান্ত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

২০২৫ সালে আলোচনার কেন্দ্রে বিচার বিভাগ: রায়, সংস্কার ও ইতিহাসগড়া সিদ্ধান্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
২০২৫ সালে আলোচনার কেন্দ্রে বিচার বিভাগ: রায়, সংস্কার ও ইতিহাসগড়া সিদ্ধান্ত ছবির ক্যাপশন: ২০২৫ সালে বিচার বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রায় ও সংস্কার জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
ad728

২০২৫ সাল বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য ছিল ঘটনাবহুল, সংবেদনশীল এবং তাৎপর্যপূর্ণ। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রায়, বিচারিক সংস্কারের উদ্যোগ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলো বিচার বিভাগকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে। কখনো পরিবর্তনের আশাবাদ, কখনো বিতর্ক—সব মিলিয়ে এই বছরটি বিচার বিভাগের জন্য গভীর রূপান্তরের এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ছিল বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির দায়ে এই রায় দেন, যা দেশের ইতিহাসে কোনো সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে দেওয়া প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় হিসেবে নজির সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে গুম সংক্রান্ত মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা বিচার বিভাগের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করে।

২০২৫ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত এসেছে। উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে সরকার অধ্যাদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়। এই অধ্যাদেশ জারির পর হাই কোর্ট বিভাগে একসঙ্গে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমবারের মতো বিচারপতি নিয়োগে আবেদন আহ্বান করাও বিচার বিভাগে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ছিল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, শৃঙ্খলা ও নিয়োগসংক্রান্ত দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। বছরের শেষ দিকে সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বতন্ত্রতা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়।

রায় ও রাজনৈতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলোও বিচার বিভাগকে আলোচনায় রাখে। আপিল বিভাগের রায়ে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহাল হলেও তা পরবর্তী সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান বিভিন্ন মামলায় খালাস পান। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাসের রায়ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য ছিল রায়, সংস্কার ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের এক ব্যতিক্রমী বছর। এই বছর নেওয়া সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের কাঠামো, স্বাধীনতা এবং জনআস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সমবায় ঋণের নামে শিক্ষকদের সর্বনাশ: কালাইয়ে ক্ষোভ

সমবায় ঋণের নামে শিক্ষকদের সর্বনাশ: কালাইয়ে ক্ষোভ