ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ সূত্র। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী) বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, বাপ্পীর বর্তমান অবস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের উপকণ্ঠে নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত পশ্চিম বেড়াবেড়ির মেঠোপাড়া এলাকায়। সেখানে একটি চারতলা ভবনের প্রথম তলার একটি ফ্ল্যাটে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় কয়েকজনের বক্তব্য। স্থানীয় বাসিন্দা ও অটোরিকশা চালকেরা ছবি দেখিয়ে তাঁকে ওই এলাকায় দেখেছেন বলে দাবি করলেও, নারায়ণপুর থানার পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো আটকের তথ্য অস্বীকার করেছে।
তবে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, বাপ্পী ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এই বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার এই আদেশ দেন। সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আবদুল লতিফ আদালতে আবেদনে উল্লেখ করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে খুন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় অর্থ পাচার বা বেহাতের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আদেশ তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটনে সহায়ক হবে।
সিআইডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক