সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ, স্ত্রী ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা ছবির ক্যাপশন:

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম ও ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, তিনটি মামলায় মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎস গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মহিউদ্দীন মহারাজকে প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন। এ মামলার অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মহিউদ্দীন মহারাজ নিজের নামে ১২২টি দলিলের মাধ্যমে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও দোকান ক্রয় করেন। এসব স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, ব্যবসায় বিনিয়োগ, কোম্পানির শেয়ার ক্রয় এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনাসহ প্রায় ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে তার অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একই সময়ের পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ফলে সম্পদ ও ব্যয়ের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এই হিসাবে প্রায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জমা করা এবং বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা স্থানান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই কর্মকাণ্ড মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য।

অন্যদিকে, মহিউদ্দীন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। এই মামলাটি দায়ের করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, উম্মে কুলসুমের নামে জমি, ফ্ল্যাট ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয় ও ব্যবসায় বিনিয়োগসহ প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। তবে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ২ কোটি ৬ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, গৃহিণী স্ত্রী এবং শিক্ষার্থী ছেলেকে ব্যবসায়ী হিসেবে দেখিয়ে অবৈধ আয়ের অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়া মহিউদ্দীন মহারাজের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির বিরুদ্ধেও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে তাকে এবং তার বাবাকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ইফতির নামে জমি ও দোকানসহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এতে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুদক বলছে, ইফতি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় তার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। মূলত মহিউদ্দীন মহারাজের অবৈধ উপার্জনের অর্থ তার ছেলের নামে দেখিয়ে আয়ের উৎস গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

দুদক আরও জানিয়েছে, পিরোজপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ‘পারমিশন পিটিশন নম্বর ০৭/২০২৫’-এর আদেশ অনুযায়ী মহিউদ্দীন মহারাজ, তার স্ত্রী এবং ছেলের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যে ক্রোক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মহিউদ্দীন মহারাজ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আরও আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদের লড়াইয়ের চেয়েও বড় অনলাইন নির্বাচন

সংসদের লড়াইয়ের চেয়েও বড় অনলাইন নির্বাচন