আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কালো টাকা ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সরকার গণমাধ্যম ও অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালাচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে কেউ যদি কালো টাকা ছড়ানোর চেষ্টা করে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থী ও ভোটারদের সচেতনতা ছাড়া কালো টাকার প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের পুরোনো একটি সমস্যা। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করলে এই প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কালো টাকার প্রভাব ঠেকাতে প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি সব সময়ই কালো টাকা ও পেশিশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এবারের নির্বাচনেও দলটির অবস্থান একই থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং কালো টাকা ও পেশিশক্তিমুক্ত। তবে তিনি মনে করেন, এই প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সহজ নয়; এর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক লড়াই প্রয়োজন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালো টাকার ব্যবহার রোধ এবং প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই জোরদার করতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদক এ জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করেছে। দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন বলেন, সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ আসে। ফলে দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ বন্ধ না করা গেলে সামগ্রিকভাবে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়।
তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব ঠেকাতে দুদক সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রার্থীদের হলফনামা, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের ভোট না দিতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক