যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আঘাত হেনেছে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন তুষারঝড়। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শক্তিশালী ‘আর্কটিক ব্লাস্ট’ বা মেরু অঞ্চল থেকে আসা হিমশীতল বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে প্রায় ২০ কোটিরও বেশি মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছেন। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগ ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস এই তুষারঝড়কে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সংস্থাটির সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চরম ঠাণ্ডার কারণে হাইপোথার্মিয়া ও ফ্রস্ট বাইটের মতো প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বড় শহরগুলো—নিউইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসি—ভারী তুষারপাত ও তীব্র ঠাণ্ডার কবলে পড়ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ঝড়টি ধীরগতিতে পুরো যুক্তরাষ্ট্র অতিক্রম করবে, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তুষারপাত ও শীতল আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। কলোরাডো থেকে শুরু করে পশ্চিম ভার্জিনিয়া হয়ে বোস্টন পর্যন্ত অনেক এলাকায় এক ফুটেরও বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ১০ থেকে ১৪ ইঞ্চি এবং বোস্টনে সর্বোচ্চ ১৭ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চরম ঠাণ্ডার মাত্রাও উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সমতল অঞ্চলে বাতাসের তীব্রতায় অনুভূত তাপমাত্রা মাইনাস ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে তাপমাত্রা মাইনাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক, টেক্সাস, জর্জিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনাসহ মোট ১৬টি রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধার ও জরুরি সেবার জন্য ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে ১,৬০০টিরও বেশি স্নো প্লো প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার টন লবণ মজুত করা হয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ২০২১ সালের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, এবার রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বরফ জমে গাছ ভেঙে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তুষারঝড়ের প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানায়, শনিবারের জন্য ৩,২০০ এবং রোববারের জন্য ৪,৮০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের তীব্রতা চরমে পৌঁছালে সড়কে যান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।
এই তুষারঝড়ের প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কানাডার পূর্ব ও আটলান্টিক অঞ্চলগুলোতেও ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডা থেকে আসা এই হিমশীতল বায়ুপ্রবাহ আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে কনকনে ঠাণ্ডা বজায় রাখবে।
কসমিক ডেস্ক