ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে কড়া শর্তে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে কড়া শর্তে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে কড়া শর্তে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটকে ঘিরে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের কাছে একাধিক শর্ত তুলে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে—ওয়াশিংটনঘনিষ্ঠ নীতি গ্রহণ না করলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিকোলা মাদুরোর মতো হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত তিনটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—মাদক পাচার কঠোরভাবে দমন করা, ইরান, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অন্যান্য দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক ও গোয়েন্দা তৎপরতা বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর কাছে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি বন্ধ করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই সূত্র আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত দেলসি রদ্রিগেজের কাছ থেকে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রত্যাশা করছে। তবে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলায় তাৎক্ষণিক কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই।

এর আগে গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে নেওয়া হয়। যদিও এ ঘটনায় ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের দাবি, মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা কোনো শাসন পরিবর্তন বা সামরিক অভিযানের অংশ নয়; বরং একজন ‘মাদক সম্রাটের’ বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পদক্ষেপ। তবে সমালোচকদের মতে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের আগ্রাসী পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক ও নাটকীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভেনেজুয়েলার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশটিতে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেলসি রদ্রিগেজ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিকোলা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হিসেবে পরিচিত হলেও ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, তাঁকে নিজেদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পথে আনা সম্ভব। অন্যথায় ভয়াবহ সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও প্রকাশ্যে দিয়েছেন ট্রাম্প।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলা এখন পর্যন্ত ভালো আচরণ করছে। তবে আমাদের মতো শক্তিশালী বাহিনী থাকাটা কাজে দেয়। তারা যদি ঠিকমতো না চলে, তাহলে আমরা দ্বিতীয়বার হামলা চালাব।”

যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে মার্কিন স্বার্থ নিশ্চিত করা। তবে দেলসি রদ্রিগেজকে দেওয়া নির্দিষ্ট শর্তাবলি নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যাতে ভেনেজুয়েলা আর পশ্চিম গোলার্ধের জন্য হুমকি হয়ে না ওঠে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ওয়াশিংটনের ধারণা—দেলসি রদ্রিগেজ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছেন, কার্যত ‘ছোট শিকলে’ বাঁধা অবস্থায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মূল্যস্ফীতি থেকে ঋণের বোঝা—অর্থনীতিতে বাড়ছে ঝুঁকি

মূল্যস্ফীতি থেকে ঋণের বোঝা—অর্থনীতিতে বাড়ছে ঝুঁকি