যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের কাছ থেকে আগাম ১ লাখ মার্কিন ডলার বন্ড বা জামানত নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হলো কম আয়ের বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অর্থ বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর সম্ভাবনা যাচাই করছে। যদিও সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একই পরিমাণ অর্থ প্রযোজ্য নাও হতে পারে, তবে কয়েকজন কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলারের বন্ডের প্রস্তাব দিয়েছেন।
প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার শুরুতেই নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হবে। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অর্থটি সরকারের কাছে জামানত হিসেবে থাকবে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে ব্যর্থ হন বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কের বন্ড বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও কম আয়ের দেশের আবেদনকারীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেক যোগ্য আবেদনকারীর পক্ষেই এককালীন ১ লাখ ডলার জোগাড় করা সম্ভব হবে না, ফলে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
এই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে প্রশাসন নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর উচ্চ ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগের কিছু আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে বাস্তবায়ন স্থগিত হয়েছে।
প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি বাস্তবায়নের আগে নীতিগত অনুমোদন এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
কসমিক ডেস্ক