বন্ধুর চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে ভারতের কলকাতায় গিয়েছিলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিল্লাল মাঝি। সেখানে বন্ধুর চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে বুকে ব্যথা উঠে মারা যান তিনি। বন্ধুর মরদেহের পাশে থাকার সময় তার মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে পরদিন মারা যান বন্ধু হাবিবুর রহমানও। পরে সাত দিন পর দুই বন্ধুর মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। একসঙ্গে জানাজা শেষে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুই পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত বিল্লাল মাঝি (৫০) গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার জামালপুর ইউনিয়নের কাপাইশ গ্রামের করম আলী মাঝির ছেলে। তার বন্ধু হাবিবুর রহমান (৫৭) একই জেলার কাপাসিয়া থানার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আসাম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিল্লাল মাঝি তার বন্ধু হাবিবুর রহমানের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে প্রায় ২৯ দিন আগে কলকাতায় যান। কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৯ আগস্ট তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে ট্যাক্সিতে থাকা অবস্থায় বিল্লাল মাঝি বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাবিবুর রহমান তাকে কাছাকাছি এম আর ভাঙ্গুর ডিস্ট্রিক্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিল্লালের মেয়ে আফরোজা আক্তার জানান, হাসপাতালে বাবার মরদেহ নিয়ে থাকার সময় বন্ধুর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে পরদিন ১০ আগস্ট হাবিবুর রহমানও মারা যান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৬ আগস্ট দুই বন্ধুর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। পরদিন ১৭ আগস্ট একসঙ্গে জানাজা শেষে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দুই বন্ধুর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এমন করুণ পরিণতি তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম জানান, দুই বন্ধুর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মরদেহ দেশে আনা ও আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
কসমিক ডেস্ক