ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, এই সংঘাতের সময় চীন ও রাশিয়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি। বরং তাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ ছিল, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষভাবে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং ইরানের কাছে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা অস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থেকেছে। তার মতে, চীন ও রাশিয়া চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারত, কিন্তু তারা তা করেনি।
তবে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছিলেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তাদের সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া আগে থেকেই ইরান সংকটে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছিল, যদিও তারা একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায়।
তবে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে চীন ইরানকে কিছু সামরিক উপযোগী সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। এর পরও ট্রাম্প তাদের ভূমিকা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন।
রাশিয়া এ বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে মধ্যপ্রাচ্যের এই ধরনের সংঘাত পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে, যেখানে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোর ভূমিকাও নতুনভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক