বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লাল্লা বুতাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি ওষুধশিল্প, তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, সামুদ্রিক অর্থনীতি, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং জনশক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি খাতেও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নবনিযুক্ত মরক্কোর রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
মরক্কোর রাষ্ট্রদূত বৈঠকে বলেন, আফ্রিকা ও ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে মরক্কো একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বস্ত্রশিল্প, ওষুধশিল্প এবং সামুদ্রিক খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। পাশাপাশি দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনশক্তি নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে মরক্কোর আগ্রহের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিনিময় কর্মসূচি বাড়ানো, পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের সফর আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মরক্কোর সম্পর্ক আগামী দিনে আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।
কসমিক ডেস্ক