মোদি আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি’—ট্রাম্প The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মোদি আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি’—ট্রাম্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 8, 2026 ইং
মোদি আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি’—ট্রাম্প ছবির ক্যাপশন:
ad728

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্র যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, সে বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সন্তুষ্ট নন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিক থেকে মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে ভাষণ সময় এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বক্তৃতায় ট্রাম্প দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাকে বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?’ আমি বলেছিলাম, ‘হ্যাঁ।’”

ট্রাম্প বলেন, মোদির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের কারণে ভারত সরকার সন্তুষ্ট নয়। তিনি বলেন, “তিনি আমার ওপর খুব একটা খুশি নন। কারণ এখন তাদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে।” ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করায় এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির শাস্তিস্বরূপ। ট্রাম্প জানান, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ। তাঁর মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে মিত্র দেশগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

বক্তৃতায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গও তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ভারত তাঁকে জানিয়েছে যে তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করছে। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করছি। ভারত ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের ক্রয়াদেশ দিয়েছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী উভয় দেশ।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি বাণিজ্য এবং শুল্কনীতি এখন যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কের একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে ওয়াশিংটন রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে দিল্লি নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনে সমান সুযোগের পরিবেশ রয়েছে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস

নির্বাচনে সমান সুযোগের পরিবেশ রয়েছে: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস