রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সুফি নৃত্যানুষ্ঠান ‘দিলনাওয়াজ’ উপভোগ করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বুধবার রাজধানীতে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাধনা’ আয়োজিত এই বিশেষ সুফি নৃত্যানুষ্ঠানে প্রধান অতিথিদের একজন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের শিল্পী, সংস্কৃতিমনা দর্শক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরাও অংশ নেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের অভিনন্দন জানান দিনেশ ত্রিবেদী এবং তাদের পরিবেশনার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় শুধু দুই দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকেই সমৃদ্ধ করছে না, বরং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় করছে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও দুই দেশের ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার আরও বলেন, সংস্কৃতি এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষে-মানুষে বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম। তাই শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘দিলনাওয়াজ’ প্রযোজনাটি রচনা করেছেন কলকাতার রাহাত আরা বেগম। এর সংগীত পরিচালনা করেছেন ভারতের খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক রতুল শঙ্কর ঘোষ।
প্রযোজনাটিতে সুফি দর্শন, আধ্যাত্মিকতা এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যের সমন্বয়ে এক অনন্য পরিবেশনা তুলে ধরা হয়, যা দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আয়োজক সংগঠন ‘সাধনা’ জানায়, এই নৃত্যনাট্য শুধু একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নয়; এটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং শিল্প-ঐতিহ্যের প্রতিফলন। দুই দেশের শিল্পীদের যৌথ অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য ও নাট্যবিনিময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কসমিক ডেস্ক