ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এইচইউআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া শুধু হামলার পরিমাণই বাড়াচ্ছে না, বরং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি করছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেনের ওপর রুশ হামলা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুনে রাশিয়া ৩০২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ বিষয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিটস্কি বলেছেন, রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক হামলার পরও মস্কো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করবে না। কারণ রাশিয়া তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি, রাশিয়া বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মাসিক উৎপাদন নির্ধারিত পরিকল্পনার তুলনায় ১১০ থেকে ১২০ শতাংশ বেশি করছে। এমনকি চলতি বছরের ৩ আগস্টের মধ্যেই জিরকন ও আধুনিকায়িত ওনিক্স ক্ষেপণাস্ত্রের বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে গেছে। সাত মাসে ৩৩টি জিরকন ও ৬০টি ওনিক্স ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে জুলাইয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে ৩৭৭টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসবের মধ্যে ইস্কান্দার-এম, এস-৪০০ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জিরকন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।
তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা। স্কিবিটস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে কিনঝাল ও খ-৩২ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা নিয়ে সমস্যা থাকায় উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, রাশিয়া ড্রোন উৎপাদনও বাড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। চলতি আগস্টে প্রায় ১১ হাজার অ্যাটাক ইউএভি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত গেরান-৪ ও গেরান-৫ ড্রোনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক একটি রুশ হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের প্রায় অর্ধেকই ছিল টার্বোজেটচালিত।
এ ধরনের দ্রুতগতির ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন ধরনের ইন্টারসেপ্টর ও স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা আরও দাবি করেছে, রাশিয়া নিজস্ব স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘রাসভিয়েত’ গড়ে তুলছে। আগামী কয়েক বছরে এই নেটওয়ার্কে শত শত স্যাটেলাইট যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এইচইউআরের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম লক্ষ্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প, লজিস্টিকস, বন্দর, রেলপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত জ্বালানি স্থাপনা। একই সঙ্গে আগামী শরৎ ও শীতকালীন অভিযানের জন্য রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের বড় মজুদ গড়ে তুলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন সত্য হলে, ভবিষ্যতে একক হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কিছুটা কমলেও দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিক হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে রাশিয়া। এতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক