সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলা, নিহত ৩ ত্রাণকর্মী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলা, নিহত ৩ ত্রাণকর্মী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 20, 2026 ইং
সুদানে ত্রাণবহরে ড্রোন হামলা, নিহত ৩ ত্রাণকর্মী ছবির ক্যাপশন:

সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান অঙ্গরাজ্যে ত্রাণবাহী ট্রাকের বহরে ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন ত্রাণকর্মী নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। দেশটির চিকিৎসকদের সংগঠন Sudan Doctors Network এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে সংগঠনটির বরাতে বলা হয়, আধাসামরিক বাহিনী Rapid Support Forces (আরএসএফ) এবং তাদের মিত্রগোষ্ঠী যৌথভাবে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বহনকারী ট্রাকের বহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বহরটি কারতালা এলাকা দিয়ে কাদুগলি ও ডিলিং শহরের দিকে যাচ্ছিল।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগঠনটির দাবি, এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে আল-রাহাদ শহরে জাতিসংঘের একটি ত্রাণবহরে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আরএসএফ নেতৃত্বের ওপর জরুরি ও কার্যকর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ত্রাণবহর ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে আল-জাজিরা সর্বশেষ হামলার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এর এক মাস আগে সরকারপন্থি Sudanese Armed Forces (এসএএফ) প্রায় দুই বছর ধরে চলা আরএসএফের অবরোধ ভেঙে ডিলিং শহরের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দেয়।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফ ও এসএএফের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সুদানজুড়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ চলছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রাজধানী খার্তুম থেকে পিছু হটার পর আরএসএফ কর্দোফান অঞ্চল ও উত্তর দারফুরের এল-ফাশের শহরে অভিযান জোরদার করে।

এল-ফাশের ছিল দারফুর অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি। গত অক্টোবরে শহরটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে যায়। এরপর সেখানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অপহরণ ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনার পর International Criminal Court (আইসিসি) উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশন জানায়, এল-ফাশের অবরোধের সময় আরএসএফ অ-আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘সমন্বিত ধ্বংসযজ্ঞ’ চালিয়েছে, যার বৈশিষ্ট্য গণহত্যার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, আরএসএফ গণহত্যার পাঁচটি মানদণ্ডের অন্তত তিনটি পূরণ করেছে—সুরক্ষিত জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন এবং জীবনধারণের অনুপযোগী পরিস্থিতি সৃষ্টি।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র এল-ফাশের অবরোধ ও দখলে ভূমিকার অভিযোগে আরএসএফের তিন শীর্ষ কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হলে দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
আগামী মাসে জাপানের সঙ্গে ইপিএ, প্রথম দিন থেকেই ৭৩৭৯ পণ্যে শু

আগামী মাসে জাপানের সঙ্গে ইপিএ, প্রথম দিন থেকেই ৭৩৭৯ পণ্যে শু