গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ের প্রভাবে ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা, ভূমিধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির প্রধান দ্বীপ লুজন, যেখানে স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং রাজধানী ম্যানিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যটননগরী বাগিওতে পাহাড় ধসে তিনটি বাড়ি চাপা পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে এবং আরও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সরকারি আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম নয় দিনেই বাগিওতে স্বাভাবিক মাসিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে মেট্রো ম্যানিলার বিভিন্ন এলাকাতেও মাসিক স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৯০ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, লুজনের অন্যান্য এলাকাতেও ভূমিধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া পানিতে ডুবে একজন, গাছ পড়ে একজন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ফিলিপাইনের পাবলিক ওয়ার্কস সেক্রেটারি ভিন্স ডিজোন জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিনের ত্রুটিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় টাইফুন বলয়ের মধ্যে অবস্থিত ফিলিপাইন প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২০টি ঝড় ও টাইফুনের মুখোমুখি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে, যা দেশটির দুর্যোগ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক