পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার এক শীর্ষ কমান্ডারের বক্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সংগঠনটির পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির অঞ্চলের ডেপুটি কমান্ডার রিজওয়ান হানিফ দাবি করেছেন, গত তিন থেকে চার বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে অজ্ঞাত বন্দুকধারীর হামলায় লস্কর-ই-তৈয়বার ৩০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওটি গত মে মাসে ধারণ করা হলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে রিজওয়ান হানিফকে একটি সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের সদস্যরা ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হয়েছেন।
রিজওয়ান হানিফ এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দায়ী করেন। তবে ভারত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান সরকারও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের মতে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ নেতা রিজওয়ান হানিফ। একই ভিডিওতে তাকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতেও শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বা ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সংগঠনটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাকিস্তানেও লস্কর-ই-তৈয়বাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত কমোডর ডিএস সোধী দাবি করেছেন, রিজওয়ান হানিফের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায় ঘটনাগুলো পাকিস্তানের ভেতরেই ঘটেছে। তার মতে, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বা অন্য কোনো পক্ষও এসব ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কসমিক ডেস্ক