পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় পরিস্থিতি চরম অস্থির হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আহত ও গ্রেপ্তারের সংখ্যাও বাড়ছে, যা পুরো অঞ্চলের জনজীবনকে অচল করে দিয়েছে।
অঞ্চলটির ৪৫ আসনের আইনসভার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অস্থিরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জেএএসি নামের একটি সংগঠন ৯ জুন ধর্মঘটের ডাক দেয়, যা পরবর্তীতে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। ফলে মুজাফফারাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে এই অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর। দোকানপাট, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং পেট্রোল স্টেশন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়ে আয়ের কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় যেসব বাজার ও এলাকা প্রাণবন্ত ছিল, সেগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। সীমিত কিছু দোকান খুললেও ব্যবসা কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংকট দ্রুতই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক