উত্তর কোরিয়া আবারও একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের দিকে সমুদ্রে একটি অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে সিউল জানায়। একই সঙ্গে জাপান সরকারও প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে।
চলতি বছরে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং অন্যান্য কৌশলগত অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ উৎক্ষেপণকে দেশটির সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন, পাল্লা, উচ্চতা এবং গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জাপান সরকার জানিয়েছে, উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যালিস্টিক ধরনের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, জুনের শেষ দিকে পরিচালিত সর্বশেষ নিশ্চিত অস্ত্র পরীক্ষায় একটি উন্নত ২৪০ মিলিমিটার মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম, একটি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি ১৫৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত হাউইটজারের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। সর্বশেষ উৎক্ষেপণ সেই ধারাবাহিকতার অংশ কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং এর জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রতিরক্ষা তৎপরতা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার আরও অস্ত্র পরীক্ষা কিংবা সামরিক মহড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকবে।
কসমিক ডেস্ক