মাদুরোকে তুলে নেওয়া বিশ্বকে যে অস্বস্তিকর বার্তা দিল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মাদুরোকে তুলে নেওয়া বিশ্বকে যে অস্বস্তিকর বার্তা দিল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 8, 2026 ইং
মাদুরোকে তুলে নেওয়া বিশ্বকে যে অস্বস্তিকর বার্তা দিল ছবির ক্যাপশন:
ad728

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন বাহিনী দেশটি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতি এক অস্বস্তিকর মোড়ে দাঁড়িয়েছে। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া কতটা বৈধ—তা নিয়ে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইনি প্রশ্নের বাইরেও আরও বড় একটি বিষয় সামনে এসেছে—এই পদক্ষেপ বিশ্বকে কী বার্তা দিল?

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, কোনো সদস্যরাষ্ট্র অন্য কোনো সদস্যরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করতে পারে না। কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেই ব্যতিক্রম রয়েছে। ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো সামরিক আক্রমণের ঘটনা না থাকায়, মাদুরোকে এভাবে তুলে নেওয়াকে জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী বলেই মনে করছেন বহু আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রশ্নাতীত নয়। যদিও প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, তবু বিদেশে সামরিক অভিযানের আগে কংগ্রেসকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অতীতেও পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল, যা আজও আন্তর্জাতিক আইনে বিতর্কিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক কারবার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ভেতরে ঢুকে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। আইনি পথ হলো সংশ্লিষ্ট দেশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণ। সে পথ এড়িয়ে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক নজির তৈরি করে।

এই ঘটনার সবচেয়ে গভীর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক রাজনীতির ভারসাম্যে। মাদুরোকে আটক করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভাষায় ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসন নিয়ে কথা বলেছেন, তা ‘নব্য উপনিবেশবাদ’-এর আশঙ্কা জাগায়। একটি শক্তিধর রাষ্ট্র যদি সরাসরি অন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দাবি তোলে, তাহলে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

এ ছাড়া এই ঘটনা অন্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকেও উৎসাহিত করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে রাশিয়া বা অন্য কোনো পরাশক্তি একই যুক্তি দেখিয়ে তাদের বিরোধী রাষ্ট্রনেতাদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নৈতিক অবস্থান থেকে আপত্তি তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে।

মাদুরোর শাসনামল প্রশ্নবিদ্ধ—এ নিয়ে বিতর্ক নেই। নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু সেই অপরাধের বিচার হওয়ার কথা ছিল ভেনেজুয়েলার আদালতে, ভেনেজুয়েলার মাটিতে। বিচার নয়, শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনা কেবল একটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের গল্প নয়; এটি বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে এক গভীর সতর্কবার্তা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনকে প্রকৃতির কাছে ফেরানোর পর

পাঁচ মাস্টারপ্ল্যানে সেন্টমার্টিনকে প্রকৃতির কাছে ফেরানোর পর