ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিমতীরেও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোর ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে গাজার সিভিল ডিফেন্স অ্যাজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে জানায়, তারা আল-শিফা হাসপাতালে ৩৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ স্থানান্তর করেছে। এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গাজায় চলমান সংঘাতে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৯ হাজার ১৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন এক লাখ ৭০ হাজার ৬৯৪ জনের বেশি মানুষ।
চলতি বছরের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা থামেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ইসরাইল অন্তত ২৮২ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে সরাসরি গুলি চালানো ছাড়াও বিমান ও কামানের মাধ্যমে হামলার ঘটনাও রয়েছে।
আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ৩১ দিনের মধ্যে ২৫ দিনই গাজায় ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ মাত্র ছয় দিন এমন ছিল, যখন কোনো সহিংস হামলা, নিহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, টানা দুই বছরের সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজায় এখনো হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এসব মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত হামলার এই ধারাবাহিকতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর এবং তা আদৌ মানা হচ্ছে কি না—সে প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে।