যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান নতি স্বীকার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এই বৈঠকের ঠিক একদিন আগেই ইরানের তেল শিল্পের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তেল রফতানি ইরানের অর্থনীতির প্রধান আয়ের উৎস। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশল কার্যকর করেছেন, যার লক্ষ্য ইরানের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার। চাপ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর ভাষায়, সর্বোচ্চ চাপের নীতির মধ্য দিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়।
যদিও ট্রাম্প ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আগেই জানিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বুদ্ধিমানের, বিচক্ষণতার বা সম্মানের নয়। তবে ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময়কার মতো সরাসরি আলোচনা নিষিদ্ধ করার নির্দেশনা তিনি পুনর্বহাল করেননি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হলে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান চুক্তির নির্ধারিত পারমাণবিক সীমা অতিক্রম করে কার্যক্রম চালায়। বাইডেন প্রশাসনের সময় চুক্তি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।
এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা সমাধানে কূটনৈতিক পথ এখনো খোলা রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো ও তেহরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরাঘচি জানান, ইরান ও রাশিয়ার সহযোগিতা জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক