সামরিক মহড়ার আড়ালে ইরান মিসাইল হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। বিষয়টি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ফের সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মিসাইল মহড়া চালাচ্ছে। ইসরায়েলের আশঙ্কা, এই মহড়ার আড়ালেই আকস্মিক হামলা হতে পারে। ছয় সপ্তাহ আগেও একই ধরনের মহড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল তেল আবিব।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে হামলার সম্ভাবনা শতভাগ নয়, বরং ৫০ শতাংশের কম। তবে এটিকে নিছক মহড়া ধরে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে ইরান সরাসরি মিসাইল হামলা চালাতে যাচ্ছে—এমন কোনো সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাদের হাতে নেই। তবু পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ‘ভুল বোঝাবুঝি’। উভয় পক্ষই একে অপরের সামরিক মহড়াকে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ধরে নিতে পারে। এমন ভুল মূল্যায়ন থেকেই সংঘাতের সূচনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে ইরানের মিসাইল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ওই সংঘর্ষের পর ইরানের মিসাইল মজুত প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে এবং বর্তমানে তাদের হাতে আনুমানিক ২০০টি লঞ্চার রয়েছে।
যুদ্ধের পর তেহরান মিসাইল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও সংঘর্ষের আগের অবস্থায় এখনও পুরোপুরি ফিরতে পারেনি বলে মনে করছেন মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। এর মধ্যেই সামরিক মহড়াকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।
কসমিক ডেস্ক