ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (HIMARS) ড্রোন হামলার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, ওই হামলায় কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা হতাহত হয়েছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
রোববার (১২ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের পরিচালিত একটি "নির্ভুল ড্রোন অভিযানে" হিমার্স লঞ্চার এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র পড ধ্বংস করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো ছবি, ভিডিও, স্যাটেলাইট তথ্য কিংবা স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিতকরণ প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া আইআরজিসি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলা এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পরিচালিত অভিযানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য স্বল্প-পাল্লার হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে হিমার্স ধ্বংস বা মার্কিন কর্মকর্তাদের হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দেশটির উত্তরাঞ্চলের তিনটি স্থল সীমান্ত চৌকি এবং কুয়েত অয়েল কোম্পানির (KOC) একটি অফশোর তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্মে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং একজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে হামলার জন্য কোনো পক্ষকে দায়ী করেনি কুয়েত।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কসমিক ডেস্ক