জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সংস্কার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। টানা ১৭ দফা আন্তঃসরকারি আলোচনা (আইজিএন) অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল না আসায় পুরো প্রক্রিয়াকে কয়েকটি দেশের ‘সংকীর্ণ স্বার্থের কাছে জিম্মি’ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারবিষয়ক আন্তঃসরকারি আলোচনা ৮১তম অধিবেশন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত রূপরেখা ছাড়াই এই আলোচনা এখন ১৮তম বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পার্বথানেনি হরিশ এ পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ১৭ দফা আলোচনা শেষ হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ভারতীয় দর্শনের উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, একই বিষয় নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও বাস্তবসম্মত সংস্কারের পথে কোনো অগ্রসরতা দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মতে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদের সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা বাড়িয়েছে।
ভারতের দাবি, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার কার্যকর করতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লিখিত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। একই সঙ্গে পরিষদে স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় ধরনের সদস্যপদ বৃদ্ধি করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর, বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত বলে আসছে, শুধু অস্থায়ী সদস্য সংখ্যা বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। স্থায়ী সদস্যপদেও নতুন দেশ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে এবং নিরাপত্তা পরিষদ আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
এদিকে ২০২৮–২০২৯ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনী প্রচারণাও শুরু করেছে ভারত। ২০২৭ সালের জুনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আসনের জন্য ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে তাজিকিস্তান। এর আগে ২০২১–২০২২ মেয়াদে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিল ভারত।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ‘ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস’ জোট—যার সদস্য পাকিস্তান, কানাডা, তুরস্ক ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ—স্থায়ী সদস্যপদ না বাড়িয়ে কেবল অস্থায়ী সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে ২৭ সদস্যের পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ভারতের মতে, স্থায়ী সদস্যপদের কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভারসাম্যে পরিবর্তন না আনলে প্রকৃত অর্থে কোনো সংস্কারই কার্যকর হবে না।
আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার ইস্যুতে নতুন অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ভারত।
কসমিক ডেস্ক