মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তেহরানের উচিত ‘ভদ্র আচরণ’ করা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা ভালোভাবেই অবগত। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতা বা চুক্তি করতে আগ্রহী।
বুধবার (১৫ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পছন্দ করেন না। তবে ইরান জানে তাদের সামনে কী পরিস্থিতি রয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমি সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না, কিন্তু ওরা মোটামুটি সবকিছু জানে। ওদের ভালো ব্যবহার করা উচিত।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। ওরা জঘন্য লোক, কিন্তু ওরা একটা সমঝোতা করতে চায়। আমি বলতে পারি, ওরা সত্যিই একটি চুক্তি চায়।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, যদি কোনো চুক্তি থেকে ইরান বাস্তব সুবিধা না পায়, তাহলে সেই চুক্তি মেনে চলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তিনি আরও বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনীতিকেও কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত থাকলেও অন্যদিকে কঠোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করবে উভয় দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
কসমিক ডেস্ক