অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার আগেই দ্রুত বয়স্ক জনসংখ্যার দেশে পরিণত হওয়ার পথে ভারত। নতুন এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটিতে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ৩৪ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ সে সময় ভারতের প্রতি পাঁচজন নাগরিকের একজন প্রবীণ হবেন। তাঁদের প্রায় ৭০ শতাংশই গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করবেন বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
‘গ্রামীণ ভারতের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, বদলে যাওয়া পরিবার এবং যত্ন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক শ্বেতপত্রে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ট্রান্সফর্ম রুরাল ইন্ডিয়া (টিআরআই)। সংস্থাটির আয়োজিত ভারত গ্রামীণ সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক উন্নত দেশ জনসংখ্যাগতভাবে বয়স্ক হওয়ার আগে তুলনামূলকভাবে বেশি আয় ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করেছিল। কিন্তু ভারত এখনো সেই পর্যায়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে পৌঁছানোর আগেই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে। ফলে পরিবার, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং স্থানীয় যত্ন কাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালে একজন প্রবীণ মানুষকে সহায়তা করার মতো কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ দশমিক ৪ জন। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা কমে ৫ দশমিক ২ জনে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে পরিবার ছোট হয়ে যাওয়া এবং তরুণদের কাজের জন্য অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে প্রচলিত পরিবারভিত্তিক যত্নব্যবস্থাও চাপে পড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৯৪ শতাংশ প্রবীণের যত্ন পরিবারেই নেওয়া হয়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বের বড় অংশ নারীদের ওপর পড়ে। নারীরা প্রতিদিন গড়ে ৩০৫ মিনিট বিনা পারিশ্রমিকের যত্নের কাজে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষদের সময় ৫৬ মিনিট।
ভারতের রোগের ধরনও বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হচ্ছে। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও ক্যান্সারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণে দীর্ঘমেয়াদি যত্নের প্রয়োজন বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে টিআরআই ‘প্রতিবেশভিত্তিক যত্ন’ মডেলের প্রস্তাব দিয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রসহ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিত যত্নব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে, ভারতের জিডিপির ২ শতাংশ যত্নভিত্তিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা হলে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এর বড় অংশের সুযোগ তৈরি হতে পারে গ্রামীণ নারীদের জন্য।
কসমিক ডেস্ক