মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি : টিআইবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি : টিআইবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 7, 2026 ইং
মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি : টিআইবি ছবির ক্যাপশন: মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি : টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, বিএনপি সরকার গঠনের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অব্যাহতির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সার্চ কমিটি থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বরং রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

টিআইবি আরও দাবি করে, ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

শিক্ষা খাত নিয়ে পর্যবেক্ষণে টিআইবি জানায়, শুধু উপাচার্য নয়, সহ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন এবং প্রভোস্ট পদেও রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। উপাচার্য নিয়োগ এবং পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা এসব অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এসব ঘটনা উচ্চশিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে একই প্রতিবেদনে শিক্ষা খাতে সরকারের কিছু উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটির পুনর্গঠন, বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, এবং লটারির পরিবর্তে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ।

এছাড়া শিক্ষকদের প্রতিবন্ধী শিশু বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা প্রণয়নকেও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

টিআইবি বলছে, শিক্ষা খাতে সংস্কারমূলক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সংস্থাটির মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।

সব মিলিয়ে টিআইবির এই প্রতিবেদন দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কখনোই প্রভাব ফেলেনি

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে কখনোই প্রভাব ফেলেনি