মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সোমবার (৬ জুলাই) রাতে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের সময় দুইটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনায় জাহাজ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলার ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও ঘটনার পরপরই কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। ব্রিটেনের United Kingdom Maritime Trade Operations (UKMTO) জানিয়েছে, ওমানের লিমা উপকূলের পূর্বদিকে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ফলে নতুন এই হামলার অভিযোগ সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বা হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে তেলবাহী কয়েকটি সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে শিপিং কোম্পানি ও তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কসমিক ডেস্ক