গাজায় নতুন ভাইরাসে বাড়ছে প্রাণহানি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসের মুখে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গাজায় নতুন ভাইরাসে বাড়ছে প্রাণহানি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসের মুখে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 20, 2026 ইং
গাজায় নতুন ভাইরাসে বাড়ছে প্রাণহানি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধসের মুখে ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইসরায়েলের অবরোধে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধার কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক ভয়াবহ শ্বাসতন্ত্রজনিত ভাইরাস। এতে শিশু, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষদের মধ্যে প্রাণহানি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন গাজার শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসে পড়তে পারে।

গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া সোমবার আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, ‘আমরা এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন।’ তিনি জানান, পরিস্থিতি এমন দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা গাজায় আগে কখনো দেখা যায়নি।

আবু সালমিয়ার মতে, এই ভাইরাসটি সম্ভবত ফ্লু বা করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সব বয়সী মানুষের মধ্যেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র অপুষ্টি, যুদ্ধজনিত দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত এবং টিকাদানের প্রায় সম্পূর্ণ অভাব সংক্রমণকে আরও মারাত্মক করে তুলেছে। তিনি বলেন, আক্রান্ত রোগীদের উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে টানা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার জ্বর, গিঁট ও হাড়ে তীব্র ব্যথা, লাগাতার মাথাব্যথা ও বমি। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ পরে তীব্র নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে, যা প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই জটিলতাগুলো বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য ভয়াবহ। যারা ঠান্ডা, আর্দ্রতা ও গাদাগাদি করে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।’

আবু সালমিয়া জানান, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তির ১০০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্যখাতের অবনতি থামেনি। হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম চিকিৎসা সরঞ্জামেরও তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে জীবাণুমুক্ত গজ, অস্ত্রোপচারের গাউন পর্যন্ত নেই। অ্যান্টিবায়োটিকের মারাত্মক সংকট চলছে। ক্যানসারের ওষুধ পুরোপুরি শেষ। কিডনি ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ওষুধও নেই।’ তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের কথাও উল্লেখ করে বলেন, মানসিক রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রায় অনুপস্থিত, যা পুরো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক জানান, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার বর্তমানে অচল। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের অভাবে এমনকি সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা যাচ্ছে না।

আবু সালমিয়া অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের সুপারিশ করা সরঞ্জামও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, ‘প্রাণরক্ষাকারী ওষুধ আটকে দেওয়া হচ্ছে, অথচ কোমল পানীয়, স্ন্যাকস ও মোবাইল ফোনের মতো অপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রবেশ করছে।’ তিনি একে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করার প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে আবু সালমিয়া বলেন, গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরীক্ষাগারের উপকরণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, ওষুধের গুদাম ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গাজার স্বাস্থ্য সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে ইরানে ফ্রি স্টারলিংক চালু

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে ইরানে ফ্রি স্টারলিংক চালু