অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সৃষ্ট এই দাবানলে শতাধিক বাড়িঘর ও স্থাপনা পুড়ে গেছে। পাশাপাশি প্রায় ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক হাজার দমকলকর্মী মাঠে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহের মাঝামাঝি দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে একাধিক স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে ওঠে। খবরটি বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে এখন পর্যন্ত তিন লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। রাজ্যজুড়ে এখনও অন্তত ১০টি বড় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এসব আগুনে বাড়িঘরসহ অন্তত ১৩০টির বেশি স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। আগুনের কারণে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভিক্টোরিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ২০১৯–২০২০ সালের ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর রাজ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড। ব্ল্যাক সামারের দাবানলে তুরস্কের সমান আয়তনের এলাকা পুড়ে গিয়েছিল এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ৩৩ জন। সেই স্মৃতি এখনো অস্ট্রেলিয়াবাসীর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে।
শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ক্যানবেরা থেকে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, দেশটি চরম ও বিপজ্জনক অগ্নিঝুঁকির দিনের মুখোমুখি। বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ার বড় একটি অংশকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই কঠিন সময়ে আঞ্চলিক এলাকার অস্ট্রেলীয়দের সঙ্গে আমার ভাবনা ও সমবেদনা রয়েছে।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দাবানলের ঝুঁকিতে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন জাতীয় উদ্যান, পার্ক ও ক্যাম্পগ্রাউন্ড সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাণহানি এড়ানো যায়।
এদিকে ভিক্টোরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় শনিবার তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতেও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণাভিমুখী আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। এতে দাবানল পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবুও কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কসমিক ডেস্ক