ভারতের সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা, মুগ্ধ মার্কিন পর্যটক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভারতের সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা, মুগ্ধ মার্কিন পর্যটক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং
ভারতের সরকারি হাসপাতালে বিনা খরচে চিকিৎসা, মুগ্ধ মার্কিন পর্যটক ছবির ক্যাপশন:

ভারত ভ্রমণে গিয়ে ওড়িশার একটি গ্রামীণ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আলোচনায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ট্রাভেল ব্লগার মাইক নুন। ভ্রমণের পঞ্চম দিনে স্থানীয় খাবার বেশি খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও ওড়িশার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মাইক নুন জানান, ওড়িশার বিভিন্ন স্থানীয় খাবার দেখে তিনি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছিলেন। এরপর প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ঘন ঘন বমি হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে তাকে স্থানীয় একটি গ্রামীণ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে বমি কমানোর ওষুধ এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধে স্যালাইন দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় নিজের অভিজ্ঞতা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মাইক। ‘American Hospitalized in India’ শিরোনামের ভিডিওতে তিনি জানান, ভারতের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার অভিজ্ঞতা তার জন্য একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেন।

মাইক স্পষ্ট করে বলেন, তার অসুস্থতার কারণ Food Poisoning নয়। বরং ওড়িশার খাবার এত ভালো লেগেছিল যে তিনি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খেয়ে ফেলেছিলেন। ফলে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে চিকিৎসার পর মাইকের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল হাসপাতালের বিল নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই তিনি হাসপাতালের খরচ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে কোনো হাসপাতাল বিল না পাওয়ায় তিনি অবাক হন।

নিজের ভিডিওতে রসিকতার সঙ্গে তিনি ভারতের চিকিৎসকদের ‘সমাজতন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভারতের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের পার্থক্য তুলে ধরতেই তিনি এই মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রতিও পরোক্ষ কটাক্ষ ছিল।

মাইকের ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চার লাখের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অসংখ্য দর্শক তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার তুলনা নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।

অনেকেই ভারতের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ মানুষের আতিথেয়তার প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বিদেশি পর্যটকদের স্থানীয় খাবারের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন। ওড়িশার এক বাসিন্দা মন্তব্য করে জানান, তাদের সংস্কৃতিতে অতিথিকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং মাইক সুস্থ হয়ে উঠেছেন—এটাই তাদের কাছে আনন্দের বিষয়।

একজন ভারতীয় চিকিৎসকও মন্তব্যে রসিকতার সঙ্গে বলেন, ওষুধের জন্য সামান্য খরচ প্রয়োজন হলেও কারো কাছে সেই অর্থ না থাকলে চিকিৎসক বা নার্সরা নিজেদের পক্ষ থেকেও সহায়তা করতে পারেন।

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর মাইক নুন ওড়িশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ‘ওড়িশার জয় হোক’ শিরোনামের আরেকটি পোস্টে তিনি স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা ও সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

মাইকের এই অভিজ্ঞতা শুধু তার ব্যক্তিগত ভ্রমণকাহিনিই নয়, বরং ভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ব্যয় এবং মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ন

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ন