আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে ‘সঠিকভাবে হিজাব না পরা’ এবং মেয়েদের জন্য গোপনে তায়কোন্দো প্রশিক্ষণ পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বছর বয়সী তরুণী খাদিজা আহমাদজাদাকে ১৩ দিন কারাভোগের পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তালেবানের সুপ্রিম কোর্টের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি।
তালেবানের নৈতিকতা ও সদাচার মন্ত্রণালয়, যা ‘ভাইস অ্যান্ড ভার্চু মিনিস্ট্রি’ নামে পরিচিত, তাদের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানান—খাদিজাকে “মহিলাদের খেলাধুলা সংক্রান্ত জিম পরিচালনার নিয়ম ভঙ্গের” অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি হেরাতের জেব্রাইল এলাকায় মেয়েদের জন্য গোপনে তায়কোন্দো প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছিলেন।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় খাদিজার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয়—তিনি ‘যথাযথ হিজাব’ পরেননি, প্রশিক্ষণকালে জিমে ‘সংগীত বাজানো হয়েছে’ এবং সেখানে লিঙ্গভিত্তিক পৃথকীকরণ মানা হয়নি। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে তাকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছিল।
এই মামলাটি পরবর্তীতে তালেবানের সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে মুক্তির পর তার বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে নারীদের জন্য সব ধরনের খেলাধুলার ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসলামি শরিয়াহর কঠোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘নিরাপদ পরিবেশ’ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ক্লাবগুলো চালু হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত নারী খেলাধুলার কোনো ক্লাব পুনরায় চালু হয়নি এবং নারীরা কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না।
তালেবান শাসনামলে আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। খাদিজা আহমাদজাদার আটক ও কারাভোগের ঘটনা আবারও দেশটিতে নারী অধিকার ও নারীদের খেলাধুলার স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নতুন করে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এসব নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করে আসছে।