তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে ব্যতিক্রমী এক ঘটনার সাক্ষী হলো তেজগাঁও কার্যালয় প্রাঙ্গণ। কলেজছাত্র রিজয়ান রশীদের তৈরি করা একটি গো-কার্ট বা রেসিং কার সরাসরি চালিয়ে দেখালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে এই ঘটনা ঘটে। সেখানে বিভিন্ন তরুণ উদ্ভাবক তাদের তৈরি প্রযুক্তিপণ্য উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করে রিজয়ান রশীদের তৈরি রেসিং কারটি।
প্রধানমন্ত্রী প্রথমে গাড়িটি ঘুরে দেখেন এবং এর প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরে তিনি নিজেই স্টিয়ারিংয়ে বসে গো-কার্টটি চালিয়ে দেখেন। তার এই পদক্ষেপ উপস্থিত তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
রিজয়ান রশীদ-এর তৈরি এই রেসিং কারটি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উপকরণ ও সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার এই উদ্ভাবন তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকা শক্তি। তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।”
তারেক রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তরুণদের বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়াতে পারলে দেশের যুবসমাজ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
রেসিং কারটি প্রদর্শনের সময় উপস্থিত দর্শক ও শিক্ষার্থীরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন, যা দ্রুতই আলোচনায় আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী মানসিকতা তৈরি করে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় ধরনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।
তবে অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা তৈরি হলেও মূল ফোকাস ছিল তরুণ উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে।
সব মিলিয়ে, একটি কলেজছাত্রের বানানো রেসিং কার শুধু একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনীই নয়, বরং তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক