যেখানে অধিকাংশ মানুষ যানজটকে সময়ের অপচয় ও দুর্ভোগ হিসেবে দেখেন, সেখানে ভারতের মুম্বাইয়ের তরুণ উদ্যোক্তা গৌরব লনধে সেই যানজটকেই পরিণত করেছেন সফল ব্যবসার পুঁজিতে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ট্রাফিক বড়া পাও’ আজ শুধু একটি জনপ্রিয় খাবারের ব্র্যান্ডই নয়, বরং উদ্ভাবনী চিন্তা, অধ্যবসায় এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার অনন্য উদাহরণ।
২০১৯ সালে গৌরব একটি পিজা ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে ক্ষুধা আর ক্লান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন তিনি উপলব্ধি করেন, রাস্তায় আটকে থাকা মানুষের জন্য সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবারের চাহিদা কতটা বড়। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘ট্রাফিক বড়া পাও’-এর ধারণা।
চাকরি ছেড়ে নতুন উদ্যোগ শুরু করতে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন মা। নিজের সঞ্চিত ১ লাখ রুপি ছেলের হাতে তুলে দেন তিনি। মা ও স্ত্রী বাড়িতে বড়া পাও তৈরি করতেন, আর গৌরব সেগুলো সুন্দরভাবে প্যাকেটজাত করে যানজটে আটকে থাকা চালক ও যাত্রীদের কাছে বিক্রি করতেন। মাত্র ২০ রুপির প্যাকেজে থাকত একটি বড়া পাও, পানির বোতল এবং টিস্যু।
শুরুর দিনগুলো ছিল কঠিন। প্রথম কয়েক দিন ক্রেতাদের আস্থা না পেয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি বড়া পাও বিনামূল্যে বিতরণ করেন তিনি। কিন্তু ধৈর্য হারাননি। ধীরে ধীরে তাঁর খাবারের স্বাদ, পরিচ্ছন্ন প্যাকেজিং এবং দ্রুত সেবার কারণে মানুষের আস্থা তৈরি হয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই ‘কমলা টি-শার্ট’ পরা ট্রাফিক বড়া পাও দলের সদস্যরা মুম্বাইয়ের থানের ব্যস্ত তীন হাথ নাকা এলাকায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তাদের দল প্রতিদিন গড়ে ৮০০টিরও বেশি বড়া পাও বিক্রি করে এবং মাসিক আয় প্রায় ২ লাখ রুপি। পাশাপাশি থানে এলাকায় দুটি স্থায়ী ফুড স্টলও পরিচালনা করছেন গৌরব।
ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতারও পরিচয় দিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। প্রতিদিন ট্রাফিক সিগন্যালে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে বড়া পাও বিতরণ করেন তিনি।
গৌরবের এই অনন্য উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। ভারতের শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা তাঁর সংগ্রাম ও সৃজনশীল উদ্যোগকে ‘একটি অনুপ্রেরণাদায়ক স্টার্টআপ গল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গৌরব লনধের গল্প প্রমাণ করে, সফলতার জন্য সবসময় বড় মূলধনের প্রয়োজন হয় না। সঠিক পর্যবেক্ষণ, নতুন ভাবনা, কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূল পরিস্থিতিকেও সফল ব্যবসার সুযোগে পরিণত করা সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক