ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। এই দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী সাজিন আহমেদ নির্জনাও আহত হয়েছেন। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় সম্পূর্ণ বিশ্রামে আছেন।
অভিনেতা নিজেই কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুর্ঘটনার বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ঈদের পর কাজের চাপ কিছুটা কম থাকায় পরিবারকে সময় দিতে এবং ছুটি উপভোগ করতে তারা কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দঘন এই ভ্রমণ শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।
জানা গেছে, গত ১১ জুন কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ রোডের হিমছড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় জোভান নিজেই স্কুটি চালাচ্ছিলেন এবং তার স্ত্রী পেছনে বসা ছিলেন। হঠাৎ সামনে থাকা একটি সিএনজি অটোরিকশা কোনো সিগন্যাল না দিয়ে দ্রুত ইউটার্ন নেয়। এতে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে জোভান বলেন, হঠাৎ সামনে ইউটার্ন নেওয়া গাড়িটি দেখে তিনি দ্রুত ব্রেক করতে বাধ্য হন। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটি থেকে তারা দুজনই রাস্তায় পড়ে যান। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান তারা।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন। দুজনেরই হাত ও পায়ে আঘাত লাগে এবং কিছু জায়গায় ছুলে যায়। শারীরিকভাবে আঘাত পেলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর বিপদের বাইরে ছিলেন বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পরের দিনই তারা ঢাকায় ফিরে আসেন। এরপর থেকেই নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে তাদের শরীরের ক্ষতস্থানগুলোর ড্রেসিং ও ফলোআপ চিকিৎসা চলমান রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত বিশ্রামে আছেন জোভান এবং সব ধরনের শুটিং কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।
এ ঘটনার পর ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। তবে জোভান জানিয়েছেন, এখন তারা দুজনই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং চিকিৎসার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ঈদের ছুটিতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সাময়িক বিরতি তৈরি করেছে। শুটিং বন্ধ থাকায় আপাতত কোনো নতুন প্রজেক্টে অংশ নিচ্ছেন না এই অভিনেতা।
বর্তমানে চিকিৎসা এবং বিশ্রামের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পরিবার ও ভক্তদের দোয়া ও সমর্থনকে তিনি শক্তি হিসেবে দেখছেন বলেও জানা গেছে।
এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পর্যটনকেন্দ্রিক সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কক্সবাজারের মতো ব্যস্ত পর্যটন রুটে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক