গেরিলা প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের অভিযোগ: মেজর (অব.) সাদিক ও স্ত্রী জাফরিন ৫ দিনের রিমান্ডে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গেরিলা প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের অভিযোগ: মেজর (অব.) সাদিক ও স্ত্রী জাফরিন ৫ দিনের রিমান্ডে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
গেরিলা প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের অভিযোগ: মেজর (অব.) সাদিক ও স্ত্রী জাফরিন ৫ দিনের রিমান্ডে ছবির ক্যাপশন: ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্য
ad728

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গোপন গেরিলা প্রশিক্ষণ প্রদান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে অর্থায়নের অভিযোগে মেজর (অব.) মো. সাদিকুল হক ও তার স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে মেজর সাদিকের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় চলতি বছরের ৩ ও ৮ জুলাই তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কেবি কনভেনশন হল সংলগ্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ নেতাকর্মীকে গোপনে প্রশিক্ষণ দেন। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ‘অপারেশন ঢাকা ব্লকেড’ নামে পরিচালিত হয়, যেখানে মেজর সাদিককে মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবির তথ্যমতে, তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ, সাংকেতিক কোড তৈরি এবং অনলাইন সিগন্যাল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের সুসংগঠিত করতেন। শুধু বসুন্ধরা নয়, পূর্বাচলের সি-সেল রিসোর্ট, মিরপুর ডিওএইচএস এবং উত্তরা এলাকায় তার নিজস্ব ফ্ল্যাটেও একাধিকবার এ ধরনের গোপন ওয়ার্কশপ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্য আসামিদের স্বীকারোক্তিতে মেজর সাদিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তাকে চাকরিচ্যুত করে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

স্ত্রী জাফরিনের বিরুদ্ধে অর্থায়নের অভিযোগ

মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া তাহমিদ জাফরিনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গুলশান থানার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের অর্থ জোগানদাতা, পরামর্শদাতা এবং নির্দেশদাতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত ২২ এপ্রিল গুলশান-১ এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্রে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সারাদেশের ছাত্রলীগ কর্মীদের সংগঠিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছিলেন।

ভাটারা থানার মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, গত জুলাই মাসে কেবি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল—শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার পর সারাদেশ থেকে লোকজন ঢাকায় এসে শাহবাগ মোড় দখল করবে এবং অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করবে। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই ভাটারা থানায় এবং ২২ এপ্রিল গুলশান থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়।

শুনানিকালে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে মেজর সাদিক ও তার স্ত্রীকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিঠাপুকুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে র‍্যাবের অভিযানে প্

মিঠাপুকুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে র‍্যাবের অভিযানে প্