রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। এ মামলায় রেস্টুরেন্টের মালিক রাফি উজ-জাহেদ (৩৪) আদালতে আত্মসমর্পণের আবেদন করেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
রবিবার (১৪ জুন) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এবিএম ইব্রাহিম খলিল। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।
এরপর ঘটনাক্রমে আসামিপক্ষ আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে আদালত ও প্রসিকিউশন পর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
মামলাটি মূলত রাজধানীর গ্রিন কোজি কটেজ নামের সাততলা ভবনে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হয়, যেখানে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ৪৬ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও ৭৫ জন জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন পুরুষ, নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
ঘটনার পর রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির কাছে, এবং ২ এপ্রিল তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
এর আগে ১৯ এপ্রিল আদালত ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেয় এবং ১৩ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। একই মামলায় গত কয়েক দফায় একাধিক আসামি আত্মসমর্পণ ও জামিন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন, যা মামলাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, আদালতের আদেশ ও পরবর্তী তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একাধিকবার আত্মসমর্পণ ও আবেদন প্রত্যাহারের ঘটনায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও ভবনের অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর তদারকি ও নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি।
কসমিক ডেস্ক