বিশ্বকাপ অভিযানে প্রত্যাশিত শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করলেও ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স। সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মতে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে হার এড়ালেও পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের খেলা ছিল ছন্দহীন ও অগোছালো।
নতুন কোচ Carlo Ancelotti-এর অধীনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে নামা ব্রাজিলের কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। তবে শুরু থেকেই দলটি কাঙ্ক্ষিত গতি ও সমন্বয় খুঁজে পায়নি। সহজ পাসিংয়ে ভুল, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং আক্রমণ তৈরিতে অদক্ষতা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
মরক্কো প্রথমে গোল করে এগিয়ে গেলে ব্রাজিল চাপে পড়ে যায়। ঠিক তখনই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্রুনো গিমারেসের পাস থেকে বক্সের ভেতর দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। তার এই ব্যক্তিগত দক্ষতাই ম্যাচে ব্রাজিলকে হার থেকে রক্ষা করে।
তবে পুরো ম্যাচজুড়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। অনেকেই মনে করছেন, দলের ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবল ও সৃজনশীলতার অভাবই সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা যায়। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ও মাঠের প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, ভিনিসিয়ুস ছাড়া দলের আর কোনো উজ্জ্বল দিক দেখা যায়নি। তাদের মতে, একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দিয়ে বিশ্বকাপে বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
তবে হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখছেন অনেকে। তারা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে হারের পরও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ের ইতিহাস। সেই উদাহরণ টেনে ব্রাজিল সমর্থকরা আশা করছেন, দলটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে।
কোচ আনচেলত্তিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন যে দল প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি এবং ভবিষ্যতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুতেই ব্রাজিল চাপের মুখে পড়লেও সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে নিজেদের প্রমাণ করার। তবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে উন্নতি না হলে সমালোচনার মাত্রা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক