নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন দায়ের হওয়া ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গত এক মাসে ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের কয়েকটি আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে এসব মামলার শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী গত ১০ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আপিল শুনানির জন্য একটি বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেন।
এই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল–এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ আইনজীবী দল গঠন করা হয়। দলে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির। এছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবা তাসনিম আখি, মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, আশরাফুল আলম, রোহানী সিদ্দীকা এবং আল আমীন সিদ্দিকী।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা–এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মোট ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়।
গত এক মাসে শুনানি শেষে শরীয়তপুরের স্কুলছাত্রী রিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, পিরোজপুরের ঝর্ণা হত্যা মামলা, স্ত্রী হত্যা-সংক্রান্ত কয়েকটি মামলাসহ মোট ১০টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক জানান, গত ১৪ জুন প্রথম কর্মদিবস থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মোট ১০টি ডেথ রেফারেন্স মামলার রায় হয়েছে। তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে এতগুলো ডেথ রেফারেন্স মামলার নিষ্পত্তি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। রাষ্ট্রপক্ষ কোনো মামলায় সময় বা মুলতবি আবেদন করেনি এবং আদালতও দ্রুত শুনানি সম্পন্ন করতে সচেষ্ট ছিলেন।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীর ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা গত ১৬ জুন বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় উঠলে আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার–এর পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন।
এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা এবং মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা বর্তমানে এই বিশেষ বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আশা, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী সেই দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। বিচারিক আদালতের রায় ও মামলার নথিপত্র ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল একসঙ্গে শুনানি শেষে হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
কসমিক ডেস্ক