গরমের সময় শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস, বিশেষ করে প্যাকেটজাত ম্যাঙ্গো জুসসহ নানা পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। সহজলভ্যতা, আকর্ষণীয় রং ও স্বাদের কারণে এসব পানীয় শিশুদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে পাওয়া এসব প্যাকেটজাত ফলের জুস নিয়মিত খাওয়ানো শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য করার জন্য প্যাকেটজাত জুসে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সোডিয়াম বেঞ্জোয়েট ও পটাশিয়াম সরবেট উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পানীয়কে আরও আকর্ষণীয় করতে কৃত্রিম রং এবং স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত চিনি ও ফ্লেভার যোগ করা হয়। এসব উপাদান একদিকে যেমন জুসের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ কমিয়ে দেয়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব প্রিজারভেটিভ নিয়মিত গ্রহণ করলে শিশুদের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি, হজমের জটিলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তচাপজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের শরীর যেহেতু সংবেদনশীল, তাই তাদের খাদ্য ও পানীয় নির্বাচনে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
এই কারণে চিকিৎসকরা শিশুদের জন্য প্যাকেটজাত পানীয়ের পরিবর্তে ঘরে তৈরি তাজা ফলের জুসকে সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন। ঘরে তৈরি জুসে কোনো কৃত্রিম উপাদান না থাকায় তা শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি উপকারী।
ঘরে সহজেই তৈরি করা যায় এমন কিছু স্বাস্থ্যকর ফলের জুসের মধ্যে রয়েছে ম্যাঙ্গো জুস, আনারস জুস এবং লিচু-লেবু জুস। ম্যাঙ্গো জুস তৈরির জন্য পাকা ও কাঁচা আম সেদ্ধ করে ব্লেন্ড করে পিউরি বানাতে হয়। এরপর এতে পানি, সামান্য চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিলেই তৈরি হয় সুস্বাদু পানীয়। ঠান্ডা করে পরিবেশনের সময় পুদিনা পাতা যোগ করলে স্বাদ আরও বাড়ে।
আনারস জুস তৈরির জন্য আনারস ব্লেন্ড করে রস ছেঁকে নিতে হয়। এরপর এতে পানি, চিনি ও সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে হালকা আঁচে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নেওয়া যায়। ঠান্ডা করে পুদিনা পাতা যোগ করলে এটি আরও সতেজ ও স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
লিচু-লেবু জুস শিশুদের জন্য একটি হালকা ও পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। খোসা ছাড়ানো লিচু পানিসহ ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হয়। এরপর এতে পানি, চিনি বা মিছরি এবং লেবুর রস মিশিয়ে ঠান্ডা পরিবেশন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে ঘরে তৈরি ফলের জুস শুধু শরীরকে ঠান্ডা রাখে না, বরং প্রাকৃতিক ভিটামিন ও পুষ্টিও নিশ্চিত করে। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুদের খাদ্য তালিকায় প্যাকেটজাত পানীয়ের পরিবর্তে ঘরে তৈরি তাজা ফলের জুসকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ও পুষ্টির দিক বিবেচনায় ঘরে তৈরি ফলের জুসই শিশুদের জন্য সবচেয়ে ভালো ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প।
কসমিক ডেস্ক