ব্রাহ্মণবাড়িয়ার Kasba উপজেলায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার সকালে উপজেলার মাদলা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপও আটক করা হয়েছে।
বিজিবি-৬০ সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক SM Shariful Islam জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কসবা উপজেলার মাদলা বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) এর টহলদল এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি পিকআপে করে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা বিপুল পরিমাণ পণ্য আটক করা হয়।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কসমেটিক্স, শাড়ি এবং থ্রি-পিস। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, এসব পণ্যের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮০০ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, এসব পণ্য অবৈধভাবে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের একটি সক্রিয় রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কসমেটিক্স, পোশাক ও ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও চোরাকারবারিরা নানা কৌশলে এসব পণ্য পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযানের সময় পাচারকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আটক পিকআপের সূত্র ধরেই চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
বিজিবির অধিনায়ক এস এম শরিফুল ইসলাম বলেন, “সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, জব্দ করা পণ্যগুলো প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এতে সরকারের রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হলেও চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে বিজিবির নিয়মিত অভিযানের কারণে পাচারকারীরা আগের তুলনায় অনেকটাই চাপে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্থানীয় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্যের চাহিদা কমাতে বাজার পর্যায়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, কসবায় বিজিবির এই অভিযান সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক